• ২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

আসন্ন জাতীয় বাজেটে চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ লি: (সিএসই) এর প্রত্যাশা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ২, ২০২৪
আসন্ন জাতীয় বাজেটে চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ লি: (সিএসই) এর প্রত্যাশা

আজ চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ লি: (সিএসই) তার চট্টগ্রামস্থ প্রধান কার্যালয়ে আসন্ন ২০২৪-২০২৫ বাজেট পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এবং পুঁজিবাজার নিয়ে তাদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে । এই সম্মেলনটি সভাপতিত্ব করেন সিএসই এর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম । উক্ত সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিএসইর পরিচালক মেজাজ (অব) এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মাদ নকিব উদ্দিন খান, মোহাম্মেদ আখতার পারভেজ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এম সাইফুর রহমান মজুমদার, এফসিএ, এফসিএমএ । এ সময় সিএসইর অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন ।
সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম আসন্ন বাজেট নিয়ে মূল বক্তব্য প্রদান করেন । তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আগামী ০৬ জুন, ২০২৪ইং, তারিখে মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহান জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য বাজেট উপস্থাপন করার কথা রয়েছে । আমরা আশাকরি চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সমূহ বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় তার সুযোগ্য অর্থমন্ত্রী একটি টেকসই ও গতিশীল বাজেট উপস্থাপন করবেন । আমরা বিশ্বাস করি, একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক বাজার কাঠামো তৈরী করার ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে । মহান জাতীয় সংসদে জাতীয় বাজেট ২০২৪-২৫ উপস্থাপনের প্রাক্কালে আমরা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট কৌশল বাজেট কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আপনাদের মাধ্যমে সরকারের নিকট উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করছি।
জাতীয় বাজেট আমাদের দেশের জন্য শুধুমাত্র একটি বাৎসরিক আয় ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত দিক নির্দেশনাও বটে। বর্তমান সরকারের কৌশলগত উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নিতকরন এবং ২০৪১ সালে একটি উন্নত রাষ্ট্রে উন্নিতকরনের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তার সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য একটি যথোপযুক্ত অর্থ বাজার কাঠামো (Financial Market Structure) তৈরি করা খুবই গুরুত্বপুর্ণ । একটি টেকসই বাজার কাঠামোর জন্য অর্থ বাজার, পুঁজিবাজার এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাঠামোর একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন । কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমাদের আর্থিক বাজার কাঠামো কার্যত অনেকাংশে ব্যাংকব্যবস্থা তথা অর্থবাজারের উপর নির্ভরশীল । যার বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব আমাদের অর্থনীতিতে ইতিমধ্যে প্রতীয়মান হচ্ছে । আমরা মনে করি আগামী বছরের জাতীয় বাজেটে পুঁজিবাজারের গুণগত সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য যথাযথ কৌশল নির্ধারণ করে দিকনির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে ।
পুঁজিবাজার উন্নয়ন কৌশলপত্রে স্বল্প ও মধ্য মেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণে সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম আসন্ন বাজেট নিয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ব্যাপারে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন:
১। তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বৃদ্ধি করন:
বর্তমানে ৩৪৯ টি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আছে। স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের জন্য গুণগত মান সম্পন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ সংখ্যা একটি সন্তোষজনক সংখ্যায় উন্নীতকরন করা প্রয়োজন।
২। একটি কার্যকর কর্পোরেট বন্ড মার্কেট চালুকরণ:
দেশে ক্রমবর্ধমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের লক্ষ্যে একটি স্থিতিশীল শক্তিশালী বন্ড মার্কেট অতীব জরুরী। একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট গঠন ও নতুন বন্ডের তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে পণ্যের বৈচিত্র্যতা আনয়নের নিমিত্তে বন্ড হতে উদ্ভুত আয়কে কর অব্যহতি প্রদান করা প্রয়োজন।
৩। মার্কেট ক্যাপ জিডিপি রেশিও বৃদ্ধিকরণ:
বাংলাদেশের অর্থনীতি সমসাময়িক peer কান্ট্রিগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে মার্কেট ক্যাপ – জিডিপি রেশিও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন । যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে স্থানীয় এবং বিদেশী বিনিয়োগ উৎসাহিত করার একটি প্যারামিটার হিসেবে বিবেচিত হয় ।
৪। পুঁজিবাজারের জন্য বাজার মধ্যস্থতাকারী ও বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধিকরণ:
বর্তমানে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে দক্ষ বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্কট রয়েছে । পাশাপাশি বিনিয়োগকারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কম। এই সংখ্যা একটি কাংখিত স্তরে উন্নিত করা প্রয়োজন ।

৫। পুঁজিবাজারের পন্য বৈচিত্র্যকরণ:
বর্তমান পুঁজিবাজার শুধুমাত্র ইকুইটি মার্কেট নির্ভর । যার ফলে বাজারে যেমন অনাকাঙ্ক্ষিত volatility পরিলক্ষিত হয় তেমনি এটি পুঁজিবাজার সম্প্রসারণের অন্তরায় । এই লক্ষ্যে কার্যকর কৌশলের মাধ্যমে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন ।
আমরা মনেকরি উপরোক্ত লক্ষ্য সমূহ স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে বাস্তবায়ন করা গেলে একটি কার্যকর পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে । সেই লক্ষ্যে বাজেট কাঠামোর মধ্যে নিমোক্ত কৌশল সমূহ অন্তৰ্ভুক্তি করার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা উল্লেখ করছি:
১। গুনগত মান সম্পন্ন তালিকাভুক্ত কোম্পনির সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য:
তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর্পোরেট কর হারের ব্যবধান নূন্যতম ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করণ ।
নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পনিকে ২/৩ বছরের জন্য কর অব্যহতি প্রদান করা ।

২। কার্যকরী বেসরকারি বন্ড মার্কেট প্রস্তুতকরণ:
আমাদের দেশের কর্পোরেট বন্ড মার্কেটের আকার খুবই ছোট । যথোপযুক্ত প্রণোদনার মাধ্যমে একটি যথোপযুক্ত বন্ড মার্কেট প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন । বর্তমানে কর্পোরেট বন্ড মার্কেটের আকার দেশের জিডিপির তুলনায় এক শতাংশের কম । যা একটি দুর্বল আর্থিক খাতের নির্দেশক। কার্যকর বন্ড মার্কেট প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তালিকাভুক্ত বন্ডের সুদকে বিনিয়োগকারী নির্বিশেষে কর অব্যহতি প্রদান করার প্রস্তাব করছি ।
পাশাপাশি দেশীয় এবং বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ উৎসাহিত করণের লক্ষ্যে ব্লু বন্ড এবং গ্রীন বন্ডকে সম্পূর্ণ কর অব্যহতি সহ কর রেয়াত প্রদান করা হলে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাপক অংশে বৃদ্ধি করা সম্ভব ।
৩। বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধিকরন:
আমাদের জনসংখ্যার তুলনায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা খুবই কম । যা গত কয়েক বছর ধরে নিন্মমুখী ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে । বাজারের প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য নিন্মোক্ত কৌশল অবলম্বন করা যায়:
লভ্যাংশের উপর দ্বৈত কর প্রত্যাহার,
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর মূলধনী লাভের উপর কর প্রত্যাহার,
মিউচুয়াল ফান্ড এবং ইটিএফ ইত্যাদি কালেকটিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কীমে কর রেয়াতি সুবিধা বৃদ্ধি করন,
মূলধনী লাভের উপর কর কর্তন করা হলে তা চূড়ান্ত করদায় হিসাবে বিবেচনা করন।

৪। পণ্য বৈচিত্র্যকরণ:
স্টক এক্সচেঞ্জসমূহের দ্রুততার সাথে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ সুবিধার্থে নিন্মোক্ত কৌশল নেওয়া যেতে পারে:
সদ্য প্রচলিত অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড এবং স্মল ক্যাপ বোর্ডে তালিকাভুক্ত উৎসাহিত করে লক্ষ্যে প্রথম ২/৩ বছরের জন্য কর অব্যাহতি প্রদান,
কমোডিটি এবং ইকুইটি ডেরিভেটিভ সহজভাবে চালুকরনের লক্ষ্যে বিনিয়োগকৃত হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর উপর সকল ধরনের কর প্রত্যাহারের ঘোষণা প্রদান,
সহজভাবে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কমোডিটি এক্সচেঞ্জকে পাঁচ বছেরের জন্য কর অব্যাহতি প্রদান করা ।

৫। ট্যাক্স জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিকরণ:
ট্যাক্স জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি করতে গেলে পূর্বে উল্ল্যেখিত কৌশলগুলোর মধ্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বৃদ্ধিকরন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার হ্রাসকরণ, মূলধনী লাভকে কর অব্যাহতি প্রদান এবং লভ্যাংশ আয়কে করমুক্ত করার মধ্যমে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা উল্ল্যেখযোগ্য ।
এরপর উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার উত্তর প্রদান করেন সিএসইর পরিচালক মেজাজ (অব) এমদাদুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এম সাইফুর রহমান মজুমদার, এফসিএ, এফসিএমএ । পরিশেষে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় ।

July 2024
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031